পাকিস্তানের খাদ্য রফতানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বেড়েছে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ সময় রফতানি পৌঁছেছে ৫৭৫ কোটি ডলারে। আগের বছরের একই সময় অর্থের এ পরিমাণ ছিল ৫৬৬ কোটি ডলার। পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরো (পিবিএস) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বাজারে চলমান খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির মধ্যেও রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে টানা ২০ মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে খাদ্য রফতানি।
মূল রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাসমতী চাল। পণ্যটি থেকে আয় ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে। রফতানির পরিমাণ ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯৮০ টন।
অন্যদিকে বাসমতী নয় এমন চালের রফতানি কমেছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ২০৮ কোটি ডলারে। এসব পণ্য রফতানির পরিমাণ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪০ লাখ টনের বেশি। সামগ্রিক চাল রফতানি ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৬ কোটি ডলারে।
পিবিএস বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে চিনির রফতানি ‘ব্যতিক্রমধর্মীভাবে’ বেড়েছে। ২০২৪ সালের জুনে ঘোষিত রফতানি নীতিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টনে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। কিন্তু মার্চের মধ্যে রফতানি হয়েছে মোট ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৯ টন চিনি।
সরকারি সংস্থাটি আরো বলছে, পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি চিনি রফতানি হয়েছে গত ডিসেম্বর ও নভেম্বরে। তবে মার্চে কোনো চিনি রফতানির তথ্য দেয়নি পিবিএস।
এছাড়া নতুন বাজারে প্রবেশ ও কসাইখানা সম্প্রসারণের ফলে মাংস রফতানি বেড়েছে দশমিক ৯৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে দেশটি মাছ ও সামুদ্রিক খাবার রফতানিতে প্রবৃদ্ধি দেখেছে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে সরবরাহ সংকটের কারণে এ সময় ফল ও শাকসবজি রফতানি কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মতো বাজারের চাহিদা এবং বাংলাদেশে নতুন ক্রেতাদের কারণে গত জুলাই-মার্চে পাকিস্তানে চাল রফতানি বেড়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে বাসমতী চালের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৪০০ রুপি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাহিদা কমেছে।
প্রতিবেদন বলছে, বিভিন্ন পণ্য রফতানিতে মিশ্র প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক বাজারের চাপে থেকেও সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের রফতানি খাত স্থিতিশীল ও সহনশীল অবস্থানে রয়েছে।